মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে – মাল্টা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা

২০২৩ সালে মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে? বাংলাদেশ থেকে মালদা যাওয়ার উপায় ও কিভাবে মালটা ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করবেন এবং বাংলাদেশে কবে মালটা এম্বাসি খুলবে এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাবেন।

ইউরোপের উন্নয়নশীল দেশের মধ্য মাল্টা একটি দেশ। বর্তমানে প্রচুর পরিমাণ লোক ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় মাল্টা যাচ্ছেন। কম টাকায় ইউরোপে যাওয়ার জন্য মালটা একটি আদর্শ দেশ হতে পারে। বাকি সব ইউরোপ দেশের মতই উন্নয়নশীল এবং সেনজেনভুক্ত রাষ্ট্র।

আপনি যদি মাল্টা যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে এই পোস্টটির সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমরা এই পোস্টে আপনাদের জন্য মালটা যাওয়ার প্রসেস শেয়ার করব এবং সেই সাথে আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরব।

বাংলাদেশ থেকে মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে

বাংলাদেশ থেকে মাল্টা যাওয়ার দুটি উপায়ে রয়েছে একটি সরকারিভাবে এবং অপরটি বেসরকারিভাবে। বর্তমানে মালটা প্রচুর জনবল নিয়োগ দিয়েছে তাই সরকারিভাবে মাল্টায় লোক যাচ্ছে। আপনি যদি মাল্টায় যাওয়ার জন্য সরকারিভাবে আবেদন করেন তাহলে আপনার খরচ হবে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা, তবে বর্তমানে ডিমান্ড অনুযায়ী এর কম বেশি হতে পারে।

আপনি যদি বেসরকারি কোন এজেন্সির মাধ্যমে যেতে চান তাহলে আপনার খরচ হবে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। বাংলাদেশে ঢাকায় এবং অন্যান্য বিভাগের অনেক এজেন্সি রয়েছে যাদের মাধ্যমে আপনি বেসরকারিভাবে তাদের দ্বারা মাল্টার পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে সব এজেন্সির রেট এক নয়। অবশ্যই বেসরকারিভাবে যাওয়ার আগে ভালোভাবে জেনে শুনে যাবেন।

বাংলাদেশ থেকে মাল্টা যাওয়ার উপায়

বাংলাদেশ থেকে মাল্টা যেতে হলে আপনাকে প্রথমে মালটায় কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করতে হবে। এখানে উল্লেখ যে বাংলাদেশে এখনো কোন মাল্টার জন্য এম্বাসি খোলা হয়নি তাই আপনাকে মালটা যেতে হলে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে আবেদন করতে হবে এবং এম্বাসি ফেস করার জন্য ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করতে হবে।

আপনি একবার ভারত থেকে মাল্টার জন্য এম্বাসি ফেস করা শেষ হলে আপনার জন্য ভিসা আবেদন করা হবে। ভিসা আবেদন করার এক থেকে তিন মাসের মধ্যে আপনার ভিসাটি অনুমোদন করা হবে। ওয়ার্ক পারমিট তৈরি হলে এবং ভিসা অনুমোদন পেলে আপনি টিকেট কেটে মাল্টা চলে যেতে পারবেন।

মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন এজেন্সি মাল্টা যেতে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ডিমান্ড করছে। বিভিন্ন এজেন্সি বিভিন্ন রকম রেট নিয়ে কাজ করছে। মালটা যাওয়ার জন্য VFS.Global এর অনুমোদিত কাগজপত্র ও স্বাক্ষর লাগবে যেটি আপনি VFS.Global ওয়েবসাইটে ফরম পিডিএফ আকারে পেয়ে যাবেন।

সরকারিভাবে মাল্টায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চলছে তাই আপনি মাল্টা যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে মাল্টা যেতে তিন থেকে চার লক্ষ টাকা লাগবে। আপনি সরাসরি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার কিছু দিনের মধ্যেই আপনার ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে এম্বাসি ফেস হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

মাল্টা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা

বর্তমানে মাল্টা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রচুর জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। মালটা ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন করছে। কম টাকায় ইউরোপে যাওয়ার জন্য মাল্টার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন করতে পারেন। মাল্টা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন করতে যা যা লাগবে।

মাল্টা যেতে হলে সর্বনিম্ন ৬ মাস মেয়াদে পাসপোর্ট থাকতে হবে। জাতীয় পরিচয় পত্র ও সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড রঙিন তোলাছবি, অবশ্যই ল্যাব প্রিন্ট হতে হবে। বিগত ৬ মাস লেনদেনকৃত ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, রেজিস্ট্রেশন এবং মেডিকেল রিপোর্ট।

ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় মাল্টায় যেতে হলে অবশ্যই নিয়োগ কারী প্রতিষ্ঠানের জব অফার লেটার থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনি যে কোম্পানিতে যাবেন সে কোম্পানি থেকে আপনাকে কাজের অফার দিচ্ছে এ রকম একটি সাইন করা ডকুমেন্টস লাগবে।

মাল্টা অনলাইনে কাজের ভিসা আবেদন করার নিয়ম হলো প্রথমে VFS.GLOBAL অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে Apply for visa ক্লিক করতে হবে এবং আপনার সামনে একটি ফরম আসবে ফরমটি পূরণ করে Submit করতে হবে।

মাল্টা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা খরচ

মাল্টার ভিসা আবেদন করতে ৭৬২০ টাকা নগদ জমা প্রদান করতে হবে। ভিসা আবেদন করার পূর্বে এক থেকে দেড় লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করতে হয় এবং বাকি টাকা পরে জমা দিতে হয়। মালটা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার সম্পূর্ণ খরচ ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। তবে এজেন্সীর মাধ্যমে করলে আরো বেশি টাকা লাগতে পারে।

আপনি আরেকটি মাধ্যমে আরো কম টাকায় ওয়ার্ক পারমিট পেতে পারেন সেটি হল আপনার পরিচিত কেউ থাকলে বা কেউ ওই ওই জায়গা থেকে ভিসা প্রদান করলে কোন টাকা খরচ হবে না শুধু বিমান টিকেট খরচ দিতে হবে। আপনার নিকট আত্মীয় কেউ থাকলে আপনি তার মাধ্যমে মাল্টা যেতে পারেন।

এছাড়াও আপনি মাল্টার TR Card পাওয়ার পর ইতালি প্রবেশের অনুমতি পাবেন। ইউরোপের অন্যান্য সেনজেন ভুক্ত দেশগুলোতে এই টিআরকার্ড অর্থাৎ ট্রাভেল কার্ড দিয়ে আপনি খুব সহজেই ঘুরে আসতে পারবেন।

মাল্টায় কোন কাজের চাহিদা বেশি

ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর মত মাল্টায় প্রচুর কাজের চাহিদা রয়েছে। মালটায় সবচেয়ে বেশি রেস্টুরেন্ট কর্মী, হোটেল বয়, রান্না করার কাজ (সেফ), কনস্ট্রাকশন, ইলেকট্রিক্যাল, ড্রাইভার, ইত্যাদি কাজে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে।

মাল্টা একটি দ্বীপ রাষ্ট্র তাই এখানে পর্যটন সংখ্যা বেশি। এখানে ইংলিশ বলতে পারে এবং হোটেলের সব কাজ করতে পারে এরকম লোকের কাজের অভাব হবে না। এই কাজগুলোর বেতন অনেক বেশি। তাই আপনি যদি ইংলিশ ভালো পারেন তাহলে আপনার জন্য এটা আরো সুবর্ণ সুযোগ। আপনি কাজ করার পাশাপাশি আরও বাড়তি ইনকাম করতে পারবেন।

মাল্টায় কাজের বেতন কত

মাল্টার সবচেয়ে বেশি বেতনের কাজ হল ডাক্তারি পেশা। এই পেশার লোকেদের বাংলা টাকায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা বেতন দিয়ে থাকে। হোটেল বয়, ক্লিনার, শ্রেফ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার , ড্রাইভার, এদের বেতন মাসে ১.৫ লাখ টাকা। এছাড়াও কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার, ডেলিভারি ম্যান , গার্মেন্টস শ্রমিক এদের বেতন প্রতি মাসে ৯০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়।

এছাড়া আপনি ইউরোপে সপ্তাহে দুইদিন কাজের বন্ধ পাবেন এই দুইদিন বাহিরে কাজ করে বাড়তি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। রাস্তা পরিষ্কার, গাড়ি ধোয়া, বাড়ির কাজ ইত্যাদি করার মাধ্যমে আপনি প্রতি মাসে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

মাল্টার ভিসা আবেদন করার পর ৩ মাস সময় লাগে ভিসা বের হতে। মাল্টা সেনজেন ভুক্ত দেশ। এই দেশের ভিসা আবেদন করার জন্য সর্বনিম্ন ১৮ বছর হতে হবে এবং সর্বোচ্চ ৪৫ বছর পর্যন্ত, এর এর চেয়ে বয়স বেশি হলে ভিসা অনুমোদন দেওয়া হবে না।

আমাদের শেষকথা: যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে লিখে জানাতে পারেন আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দেব।

Leave a Reply - Backlink not allowed