ফিতরার পরিমাণ ২০২৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন করতে নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ১১০ টাকা। গত মঙ্গলবার ১১ই মার্চ ঢাকার বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানের ১৪৪৬ বা ২০২৫ সালের এই ফিতরা নির্ধারণ করা হয়।
ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব হলেও ইসলামের দৃষ্টি কোন থেকে আদায় না কারির জন্য নবী রাসুল ধিক্কার জানিয়েছেন। কারণ ফিতরা আদায় না করলে রাসুল (সা) ইদের নামাযে আসতে বারণ করেছেন। তাই ফিতরা আদায় করতে হব। কিভাবে আদায় করলে সঠিক হবে জানতে নিচে পড়ুন।
ফিতরা কী এবং কেন প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ?
ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর হল রমজানের শেষে ঈদুল ফিতরের আগে গরিবদের মাঝে বিতরণকৃত একটি বাধ্যতামূলক দান। এটি রমজানের সিয়াম (রোজা) পালনের ত্রুটিপূরণ এবং গরিবদের ঈদ উদযাপনে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে ইসলাম দ্বারা নির্ধারিত। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে ফিতরার গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্ট। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রমজানের সিয়াম যেন আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলে না থাকে, ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে তা পূর্ণতা পায়” (ইবনে মাজাহ)।
২০২৫ সালে ফিতরার ন্যূনতম পরিমাণ
ফিতরার পরিমাণ নির্ভর করে স্থানীয় প্রধান খাদ্যশস্যের বাজারমূল্যের উপর। ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ব্যক্তির জন্য ১ সা‘ (প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কেজি) গম, আটা, বা স্থানীয় প্রধান খাদ্য প্রদান করতে হয়। ২০২৫ সালের জন্য আনুমানিক হিসাব:
- গম/আটার ভিত্তিতে:
- বাংলাদেশি টাকায়: ≈ ১১০ টাকা (৬৫ টাকা কেজি বাজারদর অনুযায়ী )
নোট: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা মসজিদ কমিটি অনুযায়ী ২০২৫ সালের জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফিতরা গণনার পদ্ধতি (স্টেপ বাই স্টেপ)
১. পরিবারের সদস্য সংখ্যা গণনা করুন: নিজে, স্ত্রী/স্বামী, সন্তান, এবং যাদের আপনি অর্থনৈতিকভাবে দেখভাল করেন।
২. বর্তমান বাজারদর যাচাই করুন: স্থানীয় বাজারে ১ সা‘ গম/চাল/খেজুরের মূল্য।
৩. নগদ বা খাদ্যশস্য প্রদান: নগদ টাকায় ফিতরা আদায় করলে বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করুন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের বাজারদর অনুযায়ী ফিতরা
বাংলাদেশে ফিতরার পরিমাণ সাধারণত ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক ঈদের আগে ঘোষিত হয়। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫-এ সামান্য কম আশা করা যাচ্ছে। উদাহরণ:
- ২০২৪: ১২০ টাকা/প্রতি সা‘ (গম) → ২০২৫: ≈ ১১০ টাকা।
ফিতরা কখন, কীভাবে, এবং কাকে দেবেন?
- সময়: রমজানের শেষে ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করুন।
- প্রদানের নিয়ম: স্থানীয় গরিব, অসহায়, বা মসজিদ কমিটির মাধ্যমে বিতরণ করুন।
- যাদের দেবেন: ফিতরা শুধুমাত্র গরিব ও মিসকিনদের জন্য। নিকটাত্মীয়দের প্রাধান্য দিন।
ফিতরা না দিলে কী হয়?
ফিতরা ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও এটি আদায় না করলে গুনাহ হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “ফিতরা আদায় না করা পর্যন্ত ঈদের দিনের সকালে ধনী-দরিদ্রের মাঝে পার্থক্য মুছে যায় না” (বুখারি)।
FAQ: ফিতরা সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর
শিশুদের ফিতরা দিতে হয় কি?
হ্যাঁ, নাবালেগ সন্তানের পক্ষে অভিভাবককে ফিতরা দিতে হবে।
ফিতরা নগদ টাকায় দিলে কী হিসাব করব?
হ্যাঁ, নগদ টাকায় স্থানীয় খাদ্যশস্যের মূল্য অনুযায়ী পরিমাণ দিন, ১১০ টাকা।
গরিব আত্মীয়কে ফিতরা দেওয়া যাবে কি?
অবশ্যই! আত্মীয়দের প্রাধান্য দিয়ে সাহায্য করুন।
Conclusion:
ইসলামিক কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৫ সালে ফিতরার সঠিক পরিমাণ ১১০ টাকা। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করুন এবং গরিবদের মুখে হাসি ফোটান।