একুশের কবিতা – একুশের সেরা ৫টি কবিতা

ভাষা আন্দোলনের জন্য ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি অনেক মানুষ জীবন দিয়েছে। তাদেরকে স্মরণ করার জন্য আমরা প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশেষ দিবস হিসেবে পালন করি। এই বিশেষ দিন উদযাপন করতে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবিতা আবৃত্তি করে থাকি।

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা গুগলে একুশের কবিতা লিখে অনুসন্ধান করে থাকেন আজকে আপনাদের জন্য কিছু একুশের কবিতা নিয়ে হাজির হয়েছি এই কবিতাগুলো আপনি বিশেষ অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করতে পারেন এবং কবিতা বলার মাধ্যমে অমর একুশকে বরণ করে নিতে পারেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি এই দিনটি আমাদের মাঝে একটি স্মরণীয় দিন এই দিনটিতে আমরা ভাষা শহীদ দিবস পালন করে থাকি। এই দিনটিকে ঘিরে আমাদের অনেক স্মৃতি রয়েছে, ভাষা শহীদদের স্মরণে আমরা শোক দিবস হিসেবে পালন করে থাকে তাই এই অমর একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটিতে আমরা অর্থবহুল করতে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করি।

আরো পড়ুন, ছোটদের জন্য একুশের কবিতা।

আপনাদের সুবিধার জন্য এখানে কিছু সেরা একুশের কবিতা দেওয়া আছে আশা করি এই কবিতাগুলো আপনার অনেক পছন্দ হবে এবং আপনি এগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও বক্তৃতার মাঝে উপস্থাপন করতে পারবেন। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক কিছু সেরা একুশের কবিতা।

একুশের কবিতা

ভাষা শহীদদের স্মরণে আমরা বিভিন্ন ধরনের কবিতা খুঁজে থাকি, ভাষা আন্দোলন ও শহীদদের প্রতি সম্মান রেখে অনেকেই কবিতা প্রকাশ করেছেন, এখানে একুশের কবিতা দেওয়া হলো, এই কবিতাটি অনেক কবিতার মধ্য সেরা তবে এই কবিতাটি আপনি বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও গান গেয়ে প্রকাশ করতে পারবেন।

একুশের কবিতা লিখেছেন আল মাহমুদ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে ?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে ?

পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।

আরো পড়ুন, একুশের কবিতা আবৃত্তি

একুশের সেরা কবিতা

বাংলাদেশের একুশের প্রেক্ষাপট নিয়ে অনেকেই কবিতা লিখেছেন তবে অনেকগুলো কবিতার মধ্যেও কিছু কবিতা রয়েছে যেগুলো সত্যিই অসাধারণ। একুশের সেরা কবিতা হিসেবে সিকান্দার আবু জাফরের একুশে ফেব্রুয়ারি কবিতা, একুশের কবিতা আশরাফ সিদ্দিকী এবং আরো অনেকেই ভালো ভালো কবিতা রয়েছে এগুলো পড়তেও যেমন সহজ, শুনতেও তেমনি শ্রুতি মধুর লাগে। আপনাদের সুবিধার জন্য এখানে একুশের নির্বাচিত সেরা কয়েকটি কবিতা দেয়া হলো।

আরও পড়ুন, ২১ শে ফেব্রুয়ারি শুভেচ্ছা, স্ট্যাটাস ও ছবি

একুশের সেরা কবিতা

তুমি কোনোদিন কাউকে বলো না—–
কবিতা এখন আমাকে ফাঁকি দিয়ে বর্ণমেলার হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে
টি এস সি থেকে দোয়েল চত্বর,
হাকিম চত্বর,
বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ!
তবে
অপরাজেয় বাংলা থেকে বটতলা, ওরাও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই;
পিছিয়ে নেই
আশেপাশের দু’একটি চায়ের স্টল, ফুটপাত, সব্যসাচী দূর্বাঘাস কেউই;
তারাও যেন প্রত্যেকেই এক একটি জীবন্ত কবিতা!

আরও পড়ুন, ২১ শে ফেব্রুয়ারি কবিতা

একুশের স্বীকারোক্তি কবিতা

তুমি কোনোদিন কাউকে বলো না—-
আরও জানতে পারলাম, তাঁরা নাকি আর স্বর্গে ফিরে যেতে চান না!
কেবল প্রত্যয়ী বুকে, শকুন চোখে একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করেন,
ধূলিকণার মতো তাদের উড়িয়ে নিতে চায় দমকা বাতাস,
তাঁরা এতোটুকু নড়েন না! হিমগিরির মতো ঠায় বসে থাকেন।
আগ্নেয়গিরি বুকের ভেতর লাভা হয়ে ওঠে বর্ণমালা,
তবু তাঁরা কিছু বলেন না।
নীরবে-নিভৃতে এক বঙ্গোপসাগর দীর্ঘশ্বাস
বুকের গভীরে চাপা দিয়ে রাখেন, কখন মহাবিস্ফোরণের মাহেন্দ্রক্ষণ ফিরে আসে!
কার কাছে জানি শুনেছেন,
আমরা নাকি এখন অ,আ,ম বলতে লজ্জা পাই!
উড়ে এসে জুড়ে বসা পরদেশি বাবুর এ বি সি বলতে পেরে গৌরব কামাই!

একুশের কবিতা আবৃত্তি

তবে এতোসুখের(!) মাঝেও আরেকটি কথা না বলে পারছি না!
তুমি কোনোদিন কাউকে বলো না—-
কেউ একজন স্বর্গে গিয়েছিলেন– ভাষা শহীদদের সাথে দেখা হয়নি!
কে জানি কানে কানে বলে দিয়েছে
প্রতিদিনই মেলায় এসে চুপচাপ বসে থাকেন রফিক,জব্বারের অতৃপ্ত আত্মা!
তাঁরা আবারও বুকের তাজা খুন ঢেলে দিতে চান
আবারও আরেকটি ৮ই ফাগুন ফিরিয়ে আনতে চান
আবারও আরও গাঢ় রঙে রাঙিয়ে দিতে চান শিমুল, কৃষ্ণচূড়া!

একুশের ছোট কবিতা

তুমি কোনোদিন কাউকে বলো না—-
আরও একটা পাক্কা খবর আছে, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে!
তাঁরা এবার নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করবেন,
এরই ধারাবাহিকতায়
তাঁরা এখন শহীদ মিনারে গণঅনশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন!
তাদের সাথে আছেন সর্বজনাব সজনে পাতা, জালি লাউয়ের ডগা, মটরশুটি,
দোয়েল-শ্যামা, ময়না-টিয়া সবাই;
আরও আছেন এই বাংলার আকাশ, এই বাংলার বাতাস, ধূলিকণা—
সবাই,
সবাই সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন
বুলেট-বোমার কোনো তোয়াক্কা নেই
কেবল আবারও শহীদ হওয়ার আকাংখারা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।।

একুশের ইতিহাস কবিতা

তুমি কোনোদিন কাউকে বলো না—-
আমরা নাকি ভুলে যেতে বসেছি বাংলা ও বাঙ্গালির ইতিহাস?
তাঁরা অবাক হয়ে কেবলই ভাবেন,
এতোকিছুর পরেও আমরা কিভাবে চুপ করে আছি!
আমরা কি তবে আর বাঙালি নেই? এই প্রশ্ন তাদের কুরে কুরে খায়।
তবে গোপন খবরও আছে একটা, কোনোদিন কাউকে বলো না—
আমি কেবল তোমাকেই চুপি চুপি বলে রাখছি!
তুমি কোনোদিন কাউকে বলো না— ——-
শুনেছি, মা ডাক তাঁরা কখনও ভুলতে দেবেন না
ভুলতে দেবেন না, মায়ের নাড়ীর সাথে বাংলা ভাষার অবিচ্ছেদ্য শেকড়ের টান!
কোনোদিন— কোনোমতেই মাতৃভাষার অমর্যাদা সহ্য করবেন না!
তৈরি হয়েই আছে তাদের বুকের সব সামান,
যে কোনো সময় একসাথে করে তারস্বরে চিৎকার করে উঠবেন,
কোনো ভয় নেই— ওরে কোনো ভয় নেই,
এই নাও———- বুক, দাগাও কামান!!

Leave a Reply - Backlink not allowed