১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া

দেখে নিন ২০২৩ সালের ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া। ব্যবসা করতে অনেক অনেক পুঁজির প্রয়োজন পড়ে, প্রয়োজন পড়ে শ্রম-দক্ষতা এবং ধৈর্যের। অনেকের শ্রম দেওয়ার মানসিকতা ও দক্ষতা থাকলেও শুধুমাত্র পুঁজির অভাবে ব্যবসা করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অন্য কোন কাজ বা কম টাকায় চাকরি করতে হচ্ছে। আপনার কাছে যদি পুজি কম থাকে এবং ১০ হাজার টাকার মধ্যে ব্যবসা শুরু করতে চান। কি ব্যবসা করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। তাহলে আমাদের এই লেখাটি পড়ে জানতে পারবেন ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া। কম টাকায় ব্যবসা করতে হলে আপনার দক্ষতার প্রয়োজন হবে।

অল্প টাকায় ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনার যথেষ্ট দক্ষতা না থাকলে আপনি লাভজনক ব্যবসা করতে পারবেন না। যেহেতু আপনি অল্প পুঁজিতে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন তাই আপনার যে কাজে আগ্রহ বেশি সেই কাজ নিয়ে ব্যবসা করা উচিত।

আপনাদের জন্য এখানে ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া যুক্ত করেছি, এই ব্যবসা গুলো আপনি ১০০০০ টাকা বা তার কম টাকার মধ্যে শুরু করতে পারবেন। এই বিজনেস আইডিয়াগুলো আপনাদের ভবিষ্যতে ইনকাম করার একটি ভালো উপায় হবে। একটি ব্যবসা শুরু করার জন্য ১০ হাজার টাকা খরচ করা যায় এবং নিম্নলিখিত ২৫টি আইডিয়া থেকে জন্য সেরা কোনটি হবে নির্বাচন করা যেতে পারে:

১. অনলাইন শিক্ষকতা: বর্তমান সময়ে ঘর বসে পড়াশোনা করতে সবাই পছন্দ করে। প্রযুক্তির উন্নতিতে সবাই এখন ঘরে বসে অনলাইনে পড়াশোনা করছে। তাই আপনি যদি পড়াশোনায় ভালো হন তাহলে অনলাইন শিক্ষকতা করতে পারেন।

এজন্য আপনাকে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে অথবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পড়াশোনা করাতে পারবেন। যেমন রবির টেন মিনিট স্কুল, ও অনলাইনে আরো কিছু ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন যেগুলোতে আপনি অনলাইনে পোর্টালে শিক্ষকতা করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

২. ব্লগিং করুন: ১০ হাজার টাকায় ব্লগিং করা একটি প্যাসিভ ইনকামের সেরা উপায় হতে পারে। ব্লগিং করার জন্য আপনাকে ওয়েবসাইট খুলতে হবে, প্রথমে ডোমেন ও হোস্টিং কিনতে হবে। এবং আপনার শখের বিষয় যেমন আপনি যে বিষয়ে পারদর্শী সেই বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন ওয়েবসাইটে।

বিভিন্ন কোম্পানির সাথে বিজ্ঞাপনের চুক্তি করতে পারেন সেই বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে আপনি প্রতি মাসে লাখ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন এই বিষয়টি গুগল অথবা ইউটিউবে অনেক তথ্য ও ভিডিও পেয়ে যাবেন।

৩. ই-কমার্স সাইট: আপনি নিজের ওয়েবসাইটে পণ্য বিক্রয় করতে পারেন এবং অন্যদেরকে সেবা দিতে পারেন। এর জন্য ই-কমার্স সাইটে নিবন্ধন করতে হবে এবং সেখানকার পণ্যগুলোর লিংক শেয়ার করে রেফার করার মাধ্যমে কমিশন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

অথবা আপনার যদি ওয়েবসাইট ডিজাইন এর প্রতি ভালো ধারণা থাকে তাহলে নিজস্ব ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে পারবেন। সেখানে আপনার তৌরি প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারেন অথবা বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি করে তাদের পণ্য বিক্রি করার মাধ্যমে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ই-কমার্স সাইট তৈরি করার জন্য দশ হাজার টাকার প্রয়োজন পড়বে। ওয়েবসাইট তৈরি করতে কিছু টাকা লাগবে এবং কিছু ব্যাকলিংক কেনার জন্য বা বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করার মাধ্যমে এবং পণ্য স্টক করার জন্য টাকা লাগবে।

৪. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং: আপনি অন্যদের সাথে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সম্পর্ক স্থাপিত করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট সেবা দিতে পারেন। বর্তমান সময়ের ১০০০০ টাকার কমে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং একটি ভালো ব্যবসার আইডিয়া। এই আইডিয়াটি বর্তমান সময়ে অনেকেই করে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছে।

এছাড়া ওর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে অনলাইনে টাকা আয় করা যাবে এক্ষেত্রে আপনার কোন বিনিয়োগ করতে হবে না। বর্তমান সময়ে বইয়ের থেকে মানুষ ফেসবুকে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় কাটায়।

তাই, আপনি অনায়াসে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রদান করে ও কিছু কাজ করে দেওয়ার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন। তবে এই ব্যবসা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী ও ধৈর্যশীল হতে হবে।

৫. ওয়েবসাইট ডিজাইন: অনলাইনে ওয়েবসাইট ডিজাইন ব্যবসাটি করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে প্রাথমিক পর্যায়ে ওয়েবসাইট ডিজাইন শেখার জন্য একটি কোর্স করতে হবে। ইউটিউব ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ফ্রিতে ওয়েব ডিজাইন শিখতে পারবেন। খুব দ্রুত ওয়েব ডিজাইন শিখতে আপনি একটি ওয়েবসাইট কোর্স করতে পারেন।

ওয়েব ডিজাইন কোর্স করতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন পড়ে না। তিন থেকে চার হাজার টাকা হলে ওয়েব ডিজাইন করার পূর্ণাঙ্গ কোর্স পাওয়া যায়। ওয়েব ডিজাইন শেখে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে এবং ডিজিটাল সেবা দেওয়ার মাধ্যমে ওয়েবসাইট ডিজাইন করে দিয়ে টাকা আয় করা সম্ভব। বর্তমান সময় ওয়েব ডিজাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল মার্কেটিং। এই মার্কেটিং এ প্রচুর টাকা ইনকাম করা যায়।

৬. ফোটোগ্রাফি: আপনি ছবি তুলে অন্যদেরকে বিক্রি করতে পারেন। কেমন হয় যদি আপনার শখের ফটোগ্রাফি দিয়ে টাকা ইনকাম করা যায়? হ্যাঁ বন্ধুরা আপনি ঠিকই পড়েছেন ফটোগ্রাফি করে টাকা আয় করা সম্ভব। আপনার তোলা ফটোগ্রাফি অনলাইনে বিক্রি করে ভালো পরিমান টাকা আয় করতে পারবেন।

এর জন্য আপনার দরকার হবে একটি ক্যামেরা এবং লেন্স। এমন কিছু ছবি তুলতে হবে যে ছবিগুলো অনেক তথ্য বহন করে ও ইউনিক হয়। এছাড়াও আপনার ছবি কম্পিউটার দিয়ে ছবিতে ভেক্টর ছবিতে রূপান্তর করে ওয়েবসাইটে বিক্রি করতে পারবেন।

ফটোগ্রাফি ও ছবি বিক্রি করার জন্য Shutterstock.com এই ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে পারেন। আপনাকে এই ওয়েবসাইট আপনার ফটোগ্রাফি এপ্রুভ করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির মাধ্যমে আপনাকে কমিশন দিবে।

৬. বই বিক্রি: বর্তমানে বই পড়ে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য। বিভিন্ন ধরনের সাহিত্যিক ও ইসলামিক বই বিক্রি বিক্রি করতে পারেন। কিছু পুরাতন বই কালেকশন করতে পারেন যেগুলো কোথাও পাওয়া যায় না এবং কিছু নতুন বই কালেকশন করতে পারেন যেগুলো বর্তমান সময়ে খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও বর্তমানে অনলাইনে বই বিক্রি করে আয় করা সম্ভব। রকমারি ডটকম ও বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে আপনার বইগুলো বিক্রি করতে পারবেন। দশ হাজার টাকার মধ্যেও এই ব্যবসাটি করতে পারেন।

৭. ভিডিও সম্পাদনা: আপনার ভিডিও এডিটিং এর যোগ্যতা থাকলে আপনি ১০ হাজার টাকার মধ্যেও এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের ফটো ও ভিডিও অডিও এডিট করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম সম্ভব। মানুষ এখন অনলাইনে পড়ার থেকে ভিডিও দেখতে বেশি পছন্দ করে তাই আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরি করতে পারলে কাজের অভাব হবে না।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে ভিডিওর অনেক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিডিও এডিটিং এখন একটি চাকরির মত, কমবেশি সবাই ভিডিও এডিট করে যারা প্রফেশনাল নয় তারা বিভিন্ন লোকের সাহায্যে এডিট করে থাকে।

আপনি সেই সব লোকেদের টার্গেট করে এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করুন যারা ভিডিও এবং বিজ্ঞাপন তৈরি করতে চায় তাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাজটি সম্পন্ন করে দিতে পারেন। কম টাকায় এই ব্যবসাটি করতে হলে আপনাকে প্রথমে একটি কম্পিউটার ও ভিডিও সফটওয়্যার প্রয়োজন পড়বে।

৮. বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম সংস্থা: আপনি বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম বিক্রি করতে পারেন। 10 হাজার টাকার মধ্যে সমস্ত রকম বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিনতে পারবেন এবং অল্প টাকায় এই ব্যবসাটি করার জন্য বেশ লাভজনক।

এই ব্যবসাটি করতে আপনাকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিনতে হবে এবং সেগুলো বেশ মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এই ব্যবসাটি করার জন্য সম্পর্কে আপনার ইলেকট্রিক্যাল কাজের জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরী। প্রয়োজনীয় কিছু কাজ করে দেওয়ার মাধ্যমে আপনি আরো বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। কম টাকার মধ্যেও এই ব্যবসাটি অনেক সুন্দর একটি ব্যবসা।

৯. আইটি সেবা: বাজারে অথবা কোন অফিসের সামনে আইটি সেবা দিতে পারেন। এর জন্য আপনার একটি কম্পিউটারের প্রয়োজন পড়বে এবং কাগজ ফটোকপি করার যন্ত্র প্রয়োজন পড়বে। আপনি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে ভালো সেকেন্ড হ্যান্ড কম্পিউটার পেয়ে যাবেন।

আর কিছু টাকা যুক্ত করে ভালো একটি ফটোকপি মেশিন কিনতে পারবেন। অফিস আদালতের সামনে বা বাজারে আপনি বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সেবা দিতে পারেন। যেমন বাংলাদেশ জাতীয় পরিচয় পত্র ফটোকপি, নিবন্ধন ফটোকপি ও পাসপোর্ট ফটোকপি করতে পারেন। অথবা ছবি ফটোকপি করার মাধ্যমেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

১০. ফোন রিচার্জ সেবা: বর্তমান সময়ে মোবাইল রিচার্জ করার জন্য সবারই রিচার্জ পয়েন্টে যেতে হয়। ১০ হাজার টাকায় বা এর কমে রিচার্জ ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে মোবাইল অপারেটর রিচার্জ অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তাকে বিভিন্ন ডকুমেন্টস দেয়ার মাধ্যমে রিচার্জ করার অনুমোদন নিতে হবে। পারার আশেপাশের দোকান বা বাজারে ফোন রিচার্জ সেবা দিতে পারেন। অল্প পুজিতে এই ব্যবসাটি করতে পারবেন।

অল্প দিনেই নগদ টাকা রিচার্জ করার মাধ্যমে বেশ ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে এই ব্যবসাটি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে। রিচার্জ ব্যবসার সাথে আপনি বিকাশ ব্যবসা এবং নগদ থেকে টাকা তোলার অ্যাকাউন্ট করতে পারেন। তাহলে আপনি আরো বেশি টাকা আয় করতে পারবেন।

১১. কাপড় ইস্ত্রি দোকান: অল্প পুজিতে ব্যবসা করার জন্য সবচেয়ে সেরা একটি ব্যবসার আইডিয়া হল কাপড় ইস্ত্রির দোকান। এই ব্যবসাটি করতে আপনার শুধু কাপড় ধোয়ার জন্য ডিটারজেন্ট ও আইরন মেশিন প্রয়োজন হবে। এই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো মাত্র কয়েক হাজার টাকার মধ্যেই কিনতে পারবেন।

বাজারে লন্ড্রি দোকান দেওয়ার মাধ্যমে সেখানে কাপড় ইস্ত্রি সেবাটি দিতে পারেন। বর্তমানে অনেকে সময় পায় না কাপড় ইস্ত্রি করার জন্য। তারা অল্প টাকায় কাপড় ইস্ত্রি করার জন্য লন্ড্রির দোকান খুঁজে থাকে, তাদেরকে সেবা দেওয়ার জন্য আপনি এই ব্যবসাটি করতে পারেন।

১২. রেস্টুরেন্ট: ১০ হাজার টাকার মধ্যে আপনি রেস্টুরেন্ট খুলতে পারেন। প্রথমে কিছু আইটেম যুক্ত করার মাধ্যমে রেস্টুরেন্ট শুরু করবেন এবং পরবর্তীতে যখন বেশি পরিমাণ লাভ হবে তখন আরো কিছু আইটেম যুক্ত করবেন।

ভালো কোন জায়গায় বা যে জায়গায় মানুষের ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য বিশ্রাম বা সময় ব্যয় করে সেখানে আপনি 10 হাজার টাকার মধ্যে একটি রেস্টুরেন্ট খুলতে পারেন। প্রাথমিক দিকে আপনাকে একটি ঘর দিতে হবে রেস্টুরেন্টের জন্য এর জন্য কিছু বাড়তি টাকা খরচ হবে।

১২. ট্যুর গাইড: ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আপনি ট্যুর গাইড হিসাবে সেবা দিতে পারেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ করতে নতুন নতুন মানুষ আসে। পাহাড়ি এলাকা ও বান্দরবান বিভিন্ন জায়গায় ট্যুর গাইড প্রয়োজন হয়।

যে সকল মানুষের রাস্তা চেনানোর জন্য লোক প্রয়োজন পড়ে তাদের সাথে টাকার বিনিময়ে ট্যুর গাইড সেবা দিতে পারেন। তোর গাইড সেবা দেওয়ার জন্য তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দিতে হবে। কোন জায়গা না চিনলে বা কোন কিছু জিজ্ঞাসা করলে তার উত্তর দিতে হবে।

১৩. স্পোর্টস কোচিং: আপনি স্পোর্টস কোচিং হিসাবে সেবা দিতে পারেন। আপনি যদি কোন খেলার ওপর ভালো দক্ষতা থাকে তাহলে সেই খেলার কোচিং খুলতে পারেন। যেমন আপনি যদি ভাল ফুটবল অথবা ক্রিকেট পারেন তাহলে সেই অনুযায়ী একটি ক্লাব তৈরি করুন।

প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে ছেলে মেয়েদের খেলা শেখানোর মাধ্যমে মাসিক বেতন নিতে পারেন। খেলা শেখার কোচিং তৈরি করার জন্য আপনার ১০ হাজার টাকারও কম খরচ হবে। প্রাথমিক দিকে কিছু ইকুপমেন্ট ও জার্সি ও জুতা কেনার মাধ্যমে শুরু করতে পারেন।

১৪. প্রিন্টিং সেবা: মাত্র ১০ হাজার টাকায় প্রিন্টিং সেবা দিয়ে বিশাল অংকের টাকা আয় করতে পারবেন। পুরাতন বা নতুন প্রিন্টিং মেশিন কেনার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রিন্ট করতে পারেন। বর্তমান সময়ে স্লোগান ও ছবি প্রিন্ট করে প্রচুর টাকা ইনকাম করা যায়।

প্রিন্ট করার জন্য আপনার কম্পিউটার অথবা মোবাইল প্রয়োজন হবে যে ছবি বা লেখাটি প্রিন্ট করবেন সেটি প্রিন্টার খুব সহজেই প্রিন্ট করতে পারবেন। বিভিন্ন ধরনের প্রিন্ট করতে পারেন যেমন শার্ট গেঞ্জি ও মগ।

১৫. চায়ের দোকান: চায়ের দোকান করতে ১০ হাজার টাকার কমে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। গ্রামের বা শহরের অলিগলিতে চায়ের দোকান পাওয়া যায়। যে সকল জায়গায় মানুষের ভিড় বেশি এবং আশেপাশে কোন দোকান নেই সেখানে একটি চায়ের স্টল দিতে পারেন।

যে জায়গায় লোকের সমাগম বেশি সেই জায়গায় চায়ের দোকান দেওয়ার মাধ্যমে প্রচুর বিক্রি করতে পারবেন। প্রথমে অল্প পুজিতে ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে আরো কিছু দোকানকে চা পাতি সাপ্লাই দেওয়ার মাধ্যমে এক্সট্রা ইনকাম করতে পারবেন।

কম টাকায় চা পাতা পাওয়ার জন্য চা কোম্পানির সাথে চুক্তি করতে পারেন এতে করে আপনি অল্প টাকায় ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। ছোট বড় সকলেই চা খায় তাই এই ব্যবসাটি অত্যাধিক জনপ্রিয়।

১৬. গ্রাফিক্স ডিজাইন: দিন দিন গ্রাফিক্স ডিজাইনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম টাকায় ব্যবসা করতে চাইলে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর ব্যবসা ঠিক করতে পারেন। প্রাথমিক দিকে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার জন্য কিছু বই অথবা ভিডিও প্রয়োজন পড়বে এগুলো কোর্স করার মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে পারবেন।

বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ছবি ও কার্ড ডিজাইন করার মাধ্যমে এই ব্যবসাটি করতে পারবেন। কম্পিউটার সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই কাজটি করতে পারবেন এর জন্য আপনাকে কোন চাকরি বা অফিসের প্রয়োজন হবে না, এই কাজটি বাড়ি থেকে ঘরে বসে করতে পারবেন।

অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের অর্ডার পেতে অনলাইনে যুক্তিবদ্ধ হতে পারেন এবং বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন যারা নিয়মিত গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ করায়। এছাড়াও বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনের অনেক চাহিদা রয়েছে।

১৭. মিনারেল ওয়াটার ব্যবসা: মিনারেল ওয়াটার ব্যবসা একটি কম টাকায় লাভজনক ব্যবসা। মিনারেল ওয়াটারের কিছু ডাম কেনার মাধ্যমে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন প্রাথমিক দিকে 10 হাজার টাকার কম বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন।

শহরের বিভিন্ন বাড়িতে মিনারেল ওয়াটার সাপ্লাই দিতে পারবেন। এই কাজটি করার জন্য একটি ভ্যান প্রয়োজন হবে। ভ্যানের মাধ্যমে ড্রামগুলো বহন করতে হবে। শহর অঞ্চলের বিভিন্ন বাড়িতে পানির প্রয়োজন পড়ে সেই সব বাড়িতে ওয়াটার ড্রামগুলো পৌঁছে দিতে পারেন।

১৮. অনুবাদের ব্যবসা: বর্তমান সময়ে অনেকেই বাংলা বুঝলেও ইংরেজি বোঝেনা আবার কিছু লোক ইংরেজির কাগজপত্র বাংলা বোঝেনা। এরকম অনেক লোক আছে যারা প্রতিটা পেজ অনুবাদ করতে চায় তাদের জন্য এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করে দিতে পারেন।

এছাড়াও অনলাইন প্লাটফর্মে ভিডিও মুভির নাটকের সাবটাইটেল গুলো অনুবাদ করে বিভিন্ন কোম্পানিকে দিতে পারেন। তবে অনুবাদ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ভাষার প্রতি দক্ষতা থাকতে হবে। ঘরে বসে কম্পিউটারের মাধ্যমে অনুবাদ করে বিভিন্ন ধরনের ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি করতে পারবেন। তৈরি করা ভিডিও ট্রান্সক্রিপ্ট বা সাবটাইটেল গুলো অনলাইনে আপলোড দিতে পারবেন। অথবা বিভিন্ন কোম্পানির সাথে চুক্তি করে অনুবাদ করার মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন।

১৯. ইউটিউব চ্যানেল: ইউটিউব চ্যানেলের শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করে বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন। ইউটিউবে ফলোয়ার্স বাড়ানোর মাধ্যমে ও ভিডিও দেখানোর মাধ্যমে যত ভিউ আসবে সে সব ভিউ সে বিজ্ঞাপন দাতারা বিজ্ঞাপন দেখাবে এর বিনিময় স্বরূপ আপনি টাকা পাবেন।

Youtube ভিডিও তৈরি করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভালো একটি ডিভাইসের প্রয়োজন হবে। বর্তমান সময়ের স্মার্ট ফোন দিয়ে ভিডিও তৈরি করা যায় তাই কম্পিউটার না থাকলেও আপনি স্মার্টফোন ব্যবহার করে youtube ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।

২০. কন্টেন্ট রাইটিং: বিভিন্ন পত্রিকা ও ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট লিখে টাকা আয় করা সম্ভব এর জন্য আপনাকে কোন টাকা বিনিয়োগ করতে হবে না। আপনার লেখালেখির ভালো দক্ষতা থাকলে এবং ইংরেজি ভাষায় লিখতে জানলে এই ব্যবসাটি করার মাধ্যমে আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটে কনটেন্ট রাইটার নিয়োগ দিয়ে থাকে। তাদের সাথে চুক্তি করার মাধ্যমে আপনি প্রতি কনটেন্ট অনুযায়ী টাকা নির্ধারণ করে ইনকাম করতে পারবেন। অনলাইনে কন্টেন্টের প্রচুর পরিমাণ চাহিদা রয়েছে। ফাইবার ও ফিলাঞ্চার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট রাইটিং এর বিজ্ঞপ্তি দেখতে পাবেন। এই সকল বিজ্ঞপ্তির মাধমে একজন রাইটার লেখালেখির জন্য লোক নিয়োগ দেয়।

তাই, আপনিও নিজের দক্ষতা বাড়ানোর সাথে সাথে বিজ্ঞপ্তি দিতে পারেন লেখালেখির জন্য। আপনার পোর্টফলিও পছন্দ করার মাধ্যমে আপনি যে বিষয়ে লিখতে জানেন সেই বিষয়ে কারো প্রয়োজন হলে আপনাকে হায়ার করার মাধ্যমে টাকা প্রদান করবে।

২১. দর্জির দোকান: শুধুমাত্র একটি মেশিন কিনেই দর্জির দোকান শুরু করতে পারবেন আর কিছু সুতা কেনার মাধ্যমে কাপড় সেলাই করার কাজ করতে পারবেন। ১০ হাজার টাকার ব্যবসার মধ্যে দর্জির দোকান দেওয়া হয়ে যাবে। আপনার যদি কাপড় সেলাইয়ের দক্ষতা থাকে তাহলে এই ব্যবসাটি আপনার জন্য সেরা হবে।

ছোট থেকে বড় সবার কাপড় সেলাই করার প্রয়োজন পড়ে এবং বিশেষ করে মেয়েদের কাপড় তৈরি করতে হয়। এজন্য দর্জির ব্যবসা অন্তত লাভজনক একটি ব্যবসা কম টাকায় সেলাই করার মাধ্যমে বেশি টাকা ইনকাম করার একটি ভালো উপায়।

এক্ষেত্রে আপনার যদি কাপড় কাটা ও সেলাই করার ভালো দক্ষতা থাকে আপনি বেশি বেশি কাজ পাবেন। নতুন ক্যাটালগ তৈরি করার মাধ্যমে সবাইকে টাক লাগিয়ে দিতে পারবেন এবং আপনার ব্যবসার উন্নতি প্রসার ঘটবে।

২২. মেকআপ আর্টিস্ট: মেকাপ আর্টিস্ট মেয়েদের জন্য সবচেয়ে ভালো একটি ব্যবসা এই ব্যবসা শুরু করতে ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন হবে। কিছু প্রয়োজনীয় মেকআপ কিনতে হবে, বিয়ের অনুষ্ঠানের গায়ে হলুদের জন্য মেকআপ প্রয়োজন হয়।

অথবা বিভিন্ন ধরনের পার্টিতে পছন্দ করে সে সকল মানুষদের মেকআপ আর্টিস্ট সেবা দিতে পারবেন। অনেক সময় পুরো একটি ফাংশনের দায়িত্ব পেয়ে গেলে অনেক বড় ধরনের ইনকাম করা সম্ভব। বিভিন্ন জায়গায় মেকাপের সার্ভিস দিয়ে এই ব্যবসার প্রসার ঘটানো সম্ভব।

২৩. গয়না তৈরি করা: গয়না তৈরি করা একটি জনপ্রিয় ব্যবসা। গয়না তৈরি করতে হলে আপনাকে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। এই ব্যবসায় কিছু টাকা বিনিয়োগ করার মাধ্যমে শুরু করতে পারবেন। তবে এর জন্য অবশ্যই আপনাকে কিছু ইউনিক দক্ষতা থাকতে হবে যেমন স্বর্ণ দিয়ে নতুন ডিজাইন করার দক্ষতা থাকতে হবে।

গয়না তৈরি করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কাজ শিখে নিতে হবে প্রাথমিক দিকে কিছু দিন কাজ শেখার জন্য ব্যয় করতে হবে এবং পরবর্তীতে কিছু ইকুপমেন্ট কেনার মাধ্যমে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসা আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারলে আপনার ইনকাম বাড়বে।

২৪. জুসের দোকান: গরমের দিনে জুসের দোকান একটি ভালো ব্যবসা হতে পারে। সবাই ক্লান্ত হয়ে পানীয় জাতীয় কিছু খাওয়ার জন্য জুসের দোকানে উপস্থিত হয় আপনি সেখানে জুস বিক্রি করার মাধ্যমে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

জুসের দোকান ব্যবসা করার জন্য আপনার ১০ হাজার টাকার বেশি প্রয়োজন হবে না। জুস তৈরি করার জন্য ব্লেন্ডার মেশিন ও ফল কিনতে হবে। ভালো একটি জায়গা দেখে দিতে হবে। জন্য যে সকল কাঁচামাল প্রয়োজন ও যন্ত্রাংশের প্রয়োজন এই সকল যন্ত্রাংশ কিনে নিতে হবে।

২৫. ফুড ও সবজি ভ্যান: ছোট ভ্যান কেনার মাধ্যমে কিছু ফল ও সবজি বহন করে গ্রামে ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতে পারেন। ব্যবসাটি শুরু করতে ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন পড়বে, চাইলে আরো কম টাকায় এই ব্যবসাটি শুরু করা সম্ভব।

অনেক সময় দেখা যায় গ্রাম থেকে বা শহর থেকে সবজি ও ফলের দোকান অনেক দূরে হয় সে ক্ষেত্রে মানুষ হাতের কাছে এইসব ফল ফুড ও সবজি পেলে কিনতে চায়। তাই আপনার উচিত যে সকল জায়গায় মানুষ বেশি সময় বাজার করার জন্য ব্যয় করতে পারেনা, সেই সকল এলাকায় ফুড ডেলিভারির কাজ করতে পারেন।

আমাদের শেষকথা: বর্তমানে ১০ হাজার টাকার মধ্যেও হাজার হাজার ব্যবসা রয়েছে তবে আপনাকে বুঝতে হবে কোন ব্যবসাটি বর্তমান সময়ে চাহিদা বেশি। এবং যে বিষয়ের প্রতি আপনার প্রচুর পরিমাণ দক্ষতা রয়েছে সেই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে একটি ব্যবসা শুরু করুন। কাজের প্রতি ও ব্যবসার প্রতি আপনার ভাল আগ্রহ থাকলে আপনি কোন দিনেই ব্যবসায় সফল হতে পারবেন।

ব্যবসায় সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি হল কাজের প্রতি লেগে থাকা এবং ভালো পণ্য বিক্রি করা। প্রথম প্রথম কম লাভবান হলেও পরবর্তীতে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়া আপনিও ব্যবসা করে একজন উদ্যোক্তা হতে পারেন। পোস্ট থেকে দেখে নিলেন কিভাবে অল্প পুঁজিতে একটি ব্যবসা শুরু করবেন। ব্যবসা সফল হতে হলে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সেই সকল বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কোথায় আপনার পণ্যগুলো বিক্রি করবেন সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply